মেলেনি সুরাহা – বরগুনা জেলার পাথরঘাটা উপজেলার বেইলী ব্রীজ সংলগ্ন নতুন বাজার নামক স্থানে ব্যক্তি মালিকানা জমি দখলবাজদের কবল থেকে উদ্ধার করতে গত ২৫ বছর ধরে দ্বারে দ্বারে ঘুরেছেন ভুক্তভোগীরা। প্রশাসনের বিভিন্ন দফতরের প্রতিশ্রম্নতি ছাড়া তাদের কপালে জোটেনি কাঙ্খিত ফলাফল।
২৫ বছর ধরে দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন ভুক্তভোগীরা, এখনো মেলেনি সুরাহা
অবশেষে সরকার পতনে পাথরঘাটা উপজেলার আওয়ামীলীগ নেতাদের পলায়নের পর মুখ খুলতে পেরেছেন ভুক্তভোগী হাসি বেগমসহ তার পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা। বরগুনা জেলা প্রশাসন ও উপজেলা প্রশাসনের সহযোগীতায় ভুক্তভোগীরা তাদের জমি ফিরে পাবেন বলে আশায় বুক বেঁধে আছেন।

এ ঘটনায় শনিবার (৮ ফেব্রুয়ারি) দুপুর সাড়ে ১২ টার দিকে পাথরঘাটা উপজেলার বেইলী ব্রীজ সংলগ্ন নতুন বাজার নামক স্থানে ঘন্টাব্যাপী মানববন্ধন করেছেন ভুক্তভোগী সকল সদস্যরা।
জানাগেছে, বরগুনা জেলার পাথরঘাটা উপজেলাধীন ১২নং জে,এল ঘুটাবাছা মৌজায় এস. এ ৫৬ নং খতিয়ান, ২৯৬৬, ২৯৬৮, ২৬৬৯ নং দাগে ২.৩৪ শতাংশ জমি ভুক্তভোগীর স্বামীর পৈত্রিক ওয়ারিশ সূত্রে ও ক্রয় সূত্রে রেকর্ডিয় মালিক। গত ১৯৬২—১৯৬৩ সালে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃক ১০ শতাংশ জমি খাল খননের জন্য সরকার একর করে নেয়।
বাকি সম্পত্তি ভুক্তভোগীর স্বামী ভোগদখল করেন। ২০০১ সালে একটি দোকান ঘর ও একটি বসত ঘর নির্মাণ করলে কতিপয় অবৈধ দখলদাররা ২০০৫ সালে রাতের অন্ধকারে তা ভেঙ্গে খালে ফেলে দেয়।
এরপর ২০০৭ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকার স্থানীয় মেয়র মোঃ আনোয়ার হোসেন আকনসহ অবৈধ দখলদারের বিরুদ্ধে উচ্ছেদের নোটিশ দিলেও অবৈধ স্থাপনা সরিয়ে নেয়নি তারা। পরে ২০০৭ সাল থেকে এ পর্যন্ত বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড, বরগুনাসহ বিভিন্ন ব্যক্তির সাথে মামলা মোকদ্দমা করে মহামান্য সুপ্রিম কোর্ট থেকে ভুক্তভোগীর পক্ষে রায় হয়।

ভুক্তভোগী হাসি বেগম বলেন, বিগত ২৫ বছর আগে অবৈধ স্থাপনা তৈরি করে বেদখল করে ব্যবসা কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে দখলবাজরা। আমরা আইনের আশ্রয় নিলেও এখনও জমি ফেরত পাই নাই। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রনালয়, পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়, পওর বিভাগ, বরিশাল, বরগুনা পানি উন্নয়ন বোর্ড ও জেলা প্রশাসনসহ সবাই জানেন আমাদেরই জমি। অতঃপর গত ১৫ মে ২০২৪ তারিখে নির্বাহী প্রকৌশলী, বরগুনা পওর বিভাগ, বাউবো, বরগুনায় সম্পত্তি পরিমাপ সংক্রান্ত বিষয়ে দরখাস্ত করা হয়।
এ ব্যাপারে বরগুনা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ রাকিব বলেন, পাথরঘাটায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের অধিগ্রহণকৃত জমিতে যে সকল অবৈধ দখলদার রয়েছে তাদেরকে উচ্ছেদের জন্য আমরা উচ্ছেদ প্রস্তাবনা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে প্রেরন করেছি। প্রস্তাবটি জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। উচ্ছেদের জন্য ম্যাজিষ্ট্রেট নিয়োগ করা হলে আমরা জেলা প্রশাসন এবং পুলিশ প্রশাসনের সহায়তায় অবৈধ উচ্ছেদ পরিচালনা করবো।

বরগুনা জেলা প্রশাসকের রাজস্ব শাখা থেকে ১৬ জানুয়ারি ২০২৫ তারিখে সরেজমিনে তদন্তপূর্বক ০৭ (সাত) দিনের মধ্যে মতামতসহ প্রতিবেদন প্রেরণের নির্দেশক্রমে অনুরোধ করলেও কোন ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়নি।
এ বিষয়ে পাথরঘাটা উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ রোকনুজ্জামান বলেন, তদন্ত প্রতিবেদন এখন পর্যন্ত প্রসেসিং আছে। অতিদ্রুত তদন্ত প্রতিবেদন প্রস্তুত করে যথা সময় যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে প্রেরণ করা হবে।
আরও পড়ুন: