বরগুনার উপকূলীয় ফসলি জমিতে ইলেকট্রনিক বর্জ্যের উপস্থিতি দিন দিন বাড়ছে, কমছে মাটির উর্বরতা এবং কৃষি উৎপাদনে দীর্ঘমেয়াদী ক্ষতির আশঙ্কা তৈরি করছে। পরিবেশবিদরা বলছেন, এই বর্জ্যের কারণে মাটি ও পানি দূষিত হয়ে পরিবেশের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।
বরগুনার ফসলি জমিতে ই-বর্জ্যের প্রভাব, কমছে মাটির উর্বরতা
বরগুনার বুড়িরচর ইউনিয়নের ফসলি জমি ঘুরে দেখা যায়, মাটির মধ্যে রেকটিফায়ার, ট্রানজিস্টরসহ বিভিন্ন ইলেকট্রনিক বর্জ্যের উপস্থিতি রয়েছে। কৃষকদের মতে, মাটির উর্বরতা কমায় জমিতে বাড়তি রাসায়নিক সার ব্যবহার করতে হচ্ছে।

পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষি রসায়ন বিভাগের প্রফেসর ড. মো. শরিফুল ইসলাম বলেন, ‘এখানে হেভি মেটাল দূষণ হচ্ছে, এতে মাটির উর্বরতা কমেছে ও ভালো ফলন হচ্ছে না। তাই কৃষক মনে করছেন, মাটিতে নাইট্রোজেনের অভাব রয়েছে। ফলে কৃষক অন্যের পরামর্শে রাসায়নিক সার ব্যবহার করছে। এতে একটি দূষণকে ঢাকতে গিয়ে আমরা আরেকটি দূষণ করছি। এই সারগুলো বেশি ব্যবহার করার কারণে আশপাশের জলাশয়গুলোর পানিও দূষিত হবে।’
বরগুনার কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ পরিচালক ড. আবু সৈয়দ মো. জোবায়েদুল আলম বলেন, ‘আমরা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে পরিবেশ অধিদপ্তরের সঙ্গে কাজ করি। বিভিন্ন সময় তাদের সঙ্গে আমাদের সমন্বয় সভাসহ নানা সম্মিলিত কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়। এর মাধ্যমে আমরা কৃষকদের ই-বর্জ্য বিষয়ে সচেতন করছি। এছাড়া আমাদের সাধারণ মানুষ যারা এ ধরনের পণ্য ব্যবহার করে তাদের এসব বর্জ্য জমিতে না ফেলার বিষয়েও আমরা সচেতনতা তৈরিতে কাজ করে যাচ্ছি।’

পরিবেশবিদ ও সচেতন মহল মনে করেন, ই-বর্জ্যের সঠিক নিষ্কাশনের ব্যবস্থা তৈরি করা জরুরি। তা না হলে কৃষি ও পরিবেশ উভয়ই বড় ক্ষতির মুখে পড়বে।
আরও পড়ুন: