সুবলং চ্যানেল সুইমিং – সাড়ে ১৩ কিলোমিটার পথ সাঁতরে পাড়ি দিতে প্রতিযোগিতায় অংশ নেন বেঙ্গল ডলফিন’স সাতারু দলের ২৬ প্রতিযোগী।
কাপ্তাই হ্রদে ‘সুবলং চ্যানেল সুইমিং’, প্রথম বরগুনার রাসেল
রাঙামাটির কাপ্তাই হ্রদে প্রথমবারের মত অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘সুবলং চ্যানেল সুইমিং’। ‘কাপ্তাই লেকে কাটবে সাঁতার, ভয় করবে জয়, নিয়মিত কাটলে সাঁতার স্বাস্থ্য ভালো রয়’- এই স্লোগানকে সামনে রেখে রাঙামাটি জেলা প্রশাসনের আয়োজনে ও জেলা ক্রীড়া সংস্থার সহযোগিতায় এই সাঁতার প্রতিযোগিতা হয়।
শনিবার সকালে সুবলং বাজার থেকে এই প্রতিযোগিতা শুরু হয়। কাপ্তাই হ্রদের মোট সাড়ে ১৩ কিলোমিটার পথ সাঁতরে পাড়ি দিতে প্রতিযোগিতায় অংশ নেন বেঙ্গল ডলফিন’স সাতারু দলের ২৬ প্রতিযোগী। শহরের শহীদ মিনার ঘাটে এসে প্রতিযোগিতা শেষ হয়।

প্রতিযোগিতায় প্রথম স্থান অধিকার করেন বরগুনার মো. সাইফুল ইসলাম রাসেল। তিনি ৩ ঘণ্টা ৫৪ মিনিটে ফিনিশিং লাইনে এসে পৌঁছান। দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থান অধিকার করেন যথাক্রমে সাতক্ষীরার মো. তৌফিকুজ্জামান এবং বগুড়ার এস আই এম ফেরদৌউস আলম।
প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া নরসিংদীর সাঁতারু সবুজ শিকদার বলেন, “আমি একজন লং ডিস্টেন্স রানার এবং সুইমার। আমি সারাদেশে সুইমিং করে থাকি। এই প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়ার মূল উদ্দেশ্য হলো দেশের মানুষের মধ্যে সাঁতারকে জনপ্রিয় করে তোলা। পাশাপাশি আমরা সাঁতার না জানার কারণে অকাল মৃত্যু রোধের জন্যও কাজ করে যাচ্ছি।”
প্রতিযোগিতার একমাত্র নারী মোছাম্মৎ সোহাগী আক্তার বলেন, “আমরা জানতে পেরেছি যে, কাপ্তাই হ্রদে সাঁতারের ব্যাপারে এখানকার স্থানীয়দের মধ্যে অনেক ভয়-ভীতি রয়েছে। আমরা সেই ভয়কে দূরের লক্ষ্যে কাপ্তাই হ্রদকে এই প্রতিযোগিতার জন্য বেছে নিয়েছি। আমি নিজেও তিনবার বাংলা চ্যানেল পাড়ি দিয়েছি।”
রাঙামাটি জেলা ক্রীড়া কর্মকর্তা ফেরদৌস আলম বলেন, “আমি রাঙামাটিতে যোগদান করার পর থেকেই সাঁতারকে জনপ্রিয় করার চেষ্টা করে যাচ্ছি। সেই প্রচেষ্টা থেকেই আজকের আয়োজন। রাঙামাটির শিশু-কিশোররা যাতে কাপ্তাই হ্রদকে আর ভয় না পায় সেজন্যই আজ দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে সাঁতারুরা এই প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়েছেন।”

প্রতিযোগিতা শেষে বিকালে শহীদ মিনার চত্বরে পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান হয়। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মোশারফ হোসেন খান এ ছাড়া পুলিশ সুপার এস এম ফরহাদ হোসেন, জোন কমান্ডার লেফটেন্যান্ট কর্নেল এরশাদ হোসেন উপস্থিত ছিলেন।
আরও পড়ুন: