বরগুনা জেলা বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চলীয় বরিশাল বিভাগের একটি উপকূলীয় প্রশাসনিক অঞ্চল, যা তার প্রাকৃতিক সম্পদ, নদী-নালা এবং বঙ্গোপসাগরের সান্নিধ্যের জন্য পরিচিত। জেলাটি ১৯৮৪ সালে পূর্ণ জেলার মর্যাদা লাভ করে, যা পূর্বে পটুয়াখালী জেলার অংশ ছিল। এই আর্টিকেলে আমরা মূল আর্টিকেলের তথ্যকে সমৃদ্ধ করবো, যাতে ভৌগোলিক সীমানা, প্রশাসনিক বিভাগ, আয়তন, জনসংখ্যা, নদীসমূহ এবং সাম্প্রতিক উন্নয়ন (২০২৫ পর্যন্ত) যোগ করা হয়েছে। তথ্যসূত্রগুলো বাংলাদেশ সরকারের অফিশিয়াল ওয়েবসাইট, উইকিপিডিয়া এবং সাম্প্রতিক রিপোর্ট থেকে সংগৃহিত। মানচিত্রের ভিজ্যুয়াল প্রতিনিধিত্বের জন্য নিচে ছবি যোগ করা হয়েছে।

বরগুনা জেলার মানচিত্র
ভৌগোলিক অবস্থান এবং সীমানা
বরগুনা জেলা বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে অবস্থিত, যার স্থানাঙ্ক ২২.১৫° উত্তর অক্ষাংশ এবং ৯০.১০° পূর্ব দ্রাঘিমা। জেলার মোট আয়তন ১,৮৩১.৩১ বর্গকিলোমিটার, যা দেশের মোট ভূমির প্রায় ১.২৪%। এর উচ্চতা সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে -৩ মিটার থেকে ২৭ মিটার (গড় ৩ মিটার), যা উপকূলীয় অঞ্চল হিসেবে জলবায়ু পরিবর্তন এবং ঘূর্ণিঝড়ের ঝুঁকিতে রয়েছে।
মূল আর্টিকেল অনুসারে সীমানা:
- উত্তরে: ঝালকাঠি জেলা, বরিশাল জেলা, পিরোজপুর জেলা এবং পটুয়াখালী জেলা।
- দক্ষিণে: পটুয়াখালী জেলা এবং বঙ্গোপসাগর (প্রায় ৫০ কিলোমিটার উপকূলরেখা)।
- পূর্বে: পটুয়াখালী জেলা।
- পশ্চিমে: পিরোজপুর জেলা এবং বাগেরহাট জেলা।
এই সীমানাগুলো জেলাকে একটি ত্রিভুজাকার আকৃতি দেয়, যা মানচিত্রে স্পষ্টভাবে দেখা যায়। বঙ্গোপসাগরের সান্নিধ্যে থাকায় এটি মৎস্য অর্থনীতি এবং পর্যটনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। সাম্প্রতিককালে (২০২৫ সালে), জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে উপকূলীয় এলাকায় নদীভাঙ্গন এবং লবণাক্ততা বৃদ্ধি পেয়েছে, যা মানচিত্রে চর এবং ম্যানগ্রোভ অঞ্চলগুলোকে প্রভাবিত করছে।
প্রশাসনিক বিভাগ এবং মানচিত্রে প্রতিফলন
জেলা সদর বরগুনা শহর, যা মানচিত্রের কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত। এটি একটি পৌরসভা নিয়ে গঠিত, যাতে ৯টি ওয়ার্ড এবং ১৮টি মহল্লা রয়েছে। সামগ্রিক প্রশাসনিক ইউনিট:
- উপজেলা: ৬টি – আমতলী (৩৮৬.৯২ কিমি²), বামনা (১০১.০৫ কিমি²), বরগুনা সদর (৪৫৪.৩৮ কিমি²), বেতাগী (১৬৭.৭৫ কিমি²), পাথরঘাটা (৩৮৭.৩৬ কিমি²), তালতলী (৩৩৩.৮৩ কিমি²)।
- পৌরসভা: ৪টি (বরগুনা সদর, আমতলী, পাথরঘাটা, বেতাগী)।
- ইউনিয়ন: ৪২টি।
- গ্রাম: ৫৬০টি।
- থানা: ৬টি।
মানচিত্রে এই উপজেলাগুলো স্পষ্টভাবে চিহ্নিত, যা জেলার উত্তর-দক্ষিণ এবং পূর্ব-পশ্চিম বিস্তার দেখায়। উদাহরণস্বরূপ, পাথরঘাটা উপজেলা দক্ষিণে বঙ্গোপসাগরের কাছে অবস্থিত, যা মৎস্য কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত।
নিচে বরগুনা জেলার একটি বিস্তারিত মানচিত্র দেখানো হলো:
নদী-নালা এবং ভৌগোলিক বৈশিষ্ট্য
মানচিত্রে বরগুনার নদীসমূহ প্রধান ভূমিকা পালন করে, যা জেলার অর্থনীতি এবং পরিবহনকে প্রভাবিত করে। প্রধান নদী:
- পায়রা নদী (জেলার পূর্ব সীমানা)।
- বিষখালী নদী (কেন্দ্রীয় অংশ দিয়ে প্রবাহিত)।
- খাকদোন নদী।
- বলেশ্বর নদী।
- হরিণঘাটা নদী।
- বুড়িশ্বর নদী।
মোট নদী এলাকা ১৬০ বর্গকিলোমিটার, এবং ৩০০টি খাল রয়েছে। মানচিত্রে এগুলো দক্ষিণ দিকে বঙ্গোপসাগরে মিলিত হয়। উপকূলীয় অঞ্চলে ম্যানগ্রোভ বন (যেমন তেঙ্গ্রাগিরি ওয়াইল্ডলাইফ স্যাংচুয়ারি) এবং চর (যেমন রুহিতার চর) দেখা যায়, যা ২০২৫ সালে পর্যটন উন্নয়নের জন্য চিহ্নিত। জেলার ভূমির ব্যবহার: কৃষিজমি ১০৪,২৩১ হেক্টর, বনভূমি ১১৩ হেক্টর।
জনসংখ্যা এবং অর্থনৈতিক পটভূমি
২০২২ আদমশুমারি অনুসারে জনসংখ্যা ১০,১০,৫৩১ (পুরুষ ৪৯২,৭৬৫, নারী ৫১৭,৭৬৬), ঘনত্ব ৫৫২ জন/বর্গকিলোমিটার। শহুরে জনসংখ্যা ২২.৮৫%, সাক্ষরতা ৮০.৬৫%। মানচিত্রে জনসংখ্যা ঘনত্ব উপকূলীয় এলাকায় বেশি, যা কৃষি (৫১.৩১%) এবং মৎস্য (৫.৯৫%) খাতে নির্ভরশীল।
ঘূর্ণিঝড় সিডরের প্রভাব
মূল আর্টিকেলে উল্লেখিত ২০০৭ সালের ঘূর্ণিঝড় সিডর বরগুনাকে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে, যাতে ৩,৪৪৭ জন মারা যায় এবং লক্ষাধিক ঘরবাড়ি ধ্বংস হয়। মানচিত্রে সিডরের পথ দেখা যায় যা দক্ষিণ উপকূল দিয়ে আঘাত করে। সাম্প্রতিককালে (২০২৫), জেলায় ঘূর্ণিঝড় আশ্রয়কেন্দ্র এবং বাঁধ নির্মাণ বৃদ্ধি পেয়েছে, যা মানচিত্রে নতুন অবকাঠামো হিসেবে চিহ্নিত।
যোগাযোগ এবং উন্নয়ন
মানচিত্রে যোগাযোগ ব্যবস্থা: সড়ক ৪৬৪ কিমি (উপজেলা), ৫৬৮ কিমি (ইউনিয়ন); নৌপথ ২৫০ নটিক্যাল মাইল। পদ্মা সেতুর উদ্বোধন (২০২২) এ জেলার সাথে ঢাকার যোগাযোগ উন্নত করেছে। ২০২৫ সালে, বরগুনা-পটুয়াখালী সড়ক উন্নয়ন প্রকল্প চলছে।
সারাংশে, বরগুনার মানচিত্র তার উপকূলীয় অবস্থান এবং প্রাকৃতিক সম্পদের চিত্র তুলে ধরে, কিন্তু জলবায়ু ঝুঁকির কারণে স্থায়িত্বশীল উন্নয়ন দরকার। আরও বিস্তারিত মানচিত্রের জন্য অফিশিয়াল সাইট barguna.gov.bd দেখুন। এই সমৃদ্ধকরণ মূল আর্টিকেলকে আরও ব্যাপক করে তুলেছে।



১ thought on “বরগুনা জেলার মানচিত্র”